পড়তে বসলেই মোবাইলের দিকে মন চলে যায়? — পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর উপায়
Do you find yourself looking at your phone when you sit down to study? Easy ways to redirect your attention by Job Edu BD
পড়তে বসলেই মোবাইলের দিকে মন চলে যায়? পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর উপায় –
বর্তমান যুগে পড়াশোনার সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে যেটি সামনে আসে, সেটি হলো মোবাইল ফোনে আসক্তি। বই খুলে পড়তে বসার আগেই আমরা ঠিক করি আজ মন দিয়ে পড়ব। কিন্তু কিছু সময়ের মধ্যেই হাত চলে যায় মোবাইলের দিকে। কখনো নোটিফিকেশন, কখনো ফেসবুক, কখনো ইউটিউব শর্টস বা রিলস—এইভাবে পড়াশোনার মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যায়।
এই সমস্যা শুধু একজন বা দুইজন শিক্ষার্থীর নয়; এটি এখন প্রায় প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর একটি সাধারণ সমস্যা। তবে ভালো খবর হলো—চাইলেই এই সমস্যা থেকে বের হওয়া সম্ভব। কিছু বাস্তবসম্মত কৌশল ও সঠিক অভ্যাস গড়ে তুললেই পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর উপায়
এই আর্টিকেলে আমরা জানব—.পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর উপায়
✨কেন পড়তে বসলেই মোবাইলের দিকে মন চলে যায়
✨মোবাইল আসক্তির ক্ষতিকর দিক
✨পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর কার্যকর উপায়
✨দীর্ঘমেয়াদে ফোকাস ধরে রাখার কৌশল
পড়তে বসলেই কেন মোবাইলের দিকে মন চলে যায়?
এই সমস্যার পেছনে একাধিক মনস্তাত্ত্বিক ও অভ্যাসগত কারণ রয়েছে।
📌 মোবাইলের তাৎক্ষণিক আনন্দ (Instant Gratification)
মোবাইল ফোন আমাদের মস্তিষ্ককে খুব দ্রুত আনন্দ দেয়। একটি ভিডিও, একটি লাইক, একটি মেসেজ—এই ছোট ছোট বিষয় থেকেই আমরা আনন্দ পাই। কিন্তু পড়াশোনা একটি *ধৈর্যের কাজ*, যেখানে ফল পেতে সময় লাগে। ফলে মস্তিষ্ক সহজ আনন্দের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
📌 সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম
ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক—এই প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা যে আপনি যতক্ষণ সম্ভব স্ক্রল করতে থাকেন। এক ভিডিও শেষ হলে সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি ভিডিও চলে আসে। এতে সময়ের হিসাব থাকে না।
📌 পড়ার অভ্যাস দুর্বল হওয়া
নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাস না থাকলে মন সহজেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় বইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকা তখন বিরক্তিকর মনে হয়।
📌 পড়াশোনাকে চাপ হিসেবে দেখা
অনেকে পড়াশোনাকে দায়িত্ব বা বোঝা মনে করে। এতে পড়ার প্রতি আগ্রহ কমে যায় এবং মন অন্যদিকে পালাতে চায়।
📌 নোটিফিকেশনের প্রভাব
একটি ছোট “টিং” শব্দই মনোযোগ ভাঙার জন্য যথেষ্ট। বারবার নোটিফিকেশন এলে মন পড়ার জায়গায় স্থির থাকতে পারে না।
পড়ার সময় মোবাইল ব্যবহার করার ক্ষতিকর দিক
অনেকেই মনে করে, “কিছুক্ষণ মোবাইল দেখলে কী এমন ক্ষতি হবে?”
আসলে এর প্রভাব অনেক গভীর।
📌 মনোযোগের ক্ষমতা কমে যায়
বারবার মনোযোগ বদলালে মস্তিষ্ক দীর্ঘ সময় ফোকাস ধরে রাখতে শেখে না।
📌 পড়া মনে থাকে না
মোবাইল ব্যবহার করে পড়লে পড়া ঠিকমতো মনে থাকে না। বারবার একই বিষয় পড়তে হয়।
📌 সময় নষ্ট হয়
যেটা ১ ঘণ্টায় শেষ হওয়ার কথা, সেটা ৩ ঘণ্টাতেও শেষ হয় না।
📌 ফলাফল খারাপ হয়
মনোযোগহীন পড়াশোনা পরীক্ষার ফলাফলেও প্রভাব ফেলে।
📌 মানসিক চাপ বাড়ে
সময় নষ্ট হওয়ার পর অপরাধবোধ তৈরি হয়, যা মানসিক চাপ বাড়ায়।
পড়াশোনায় মনোযোগ ফিরিয়ে আনার কার্যকর উপায়
এখন আসি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে—সমাধান
১. পড়ার সময় মোবাইল একেবারে দূরে রাখুন
সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো—
* মোবাইল অন্য রুমে রাখা
* বা ব্যাগের ভিতরে ঢুকিয়ে রাখা
চোখের সামনে থাকলে ব্যবহার করার ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
২. নোটিফিকেশন সম্পূর্ণ বন্ধ করুন
পড়ার সময়—
* সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশন অফ করুন
* প্রয়োজনে “Do Not Disturb” মোড চালু রাখুন
এতে মনোযোগ ভাঙবে না।
৩. Pomodoro Technique ব্যবহার করুন
এই পদ্ধতিটি খুব জনপ্রিয়—
* ২৫ মিনিট মন দিয়ে পড়ুন
* ৫ মিনিট বিরতি নিন
* ৪ বার করলে ১৫–২০ মিনিট বড় বিরতি
এভাবে পড়লে ক্লান্তি কম হয়।
৪. পড়ার আগে নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করুন
যেমন—
* আজ ২০ পৃষ্ঠা পড়ব
* এই অধ্যায়ের ৫টি প্রশ্ন শেষ করব
লক্ষ্য থাকলে মনোযোগ বেশি থাকে।
৫. পড়ার পরিবেশ ঠিক করুন
পড়ার জায়গা হওয়া উচিত—
* শান্ত
* আলো-বাতাসযুক্ত
* পরিষ্কার
অগোছালো পরিবেশ মনোযোগ নষ্ট করে।
৬. কঠিন বিষয় দিয়ে পড়া শুরু করবেন না
শুরুর দিকে তুলনামূলক সহজ বা আগ্রহের বিষয় দিয়ে পড়া শুরু করুন। এতে মন ধীরে ধীরে প্রস্তুত হয়।
৭. পড়াশোনাকে ছোট অংশে ভাগ করুন
একসাথে পুরো অধ্যায় পড়ার চিন্তা না করে ছোট ছোট অংশে ভাগ করুন।
দীর্ঘমেয়াদে মনোযোগ বাড়ানোর অভ্যাস
✅ নির্দিষ্ট সময়ে পড়ার রুটিন তৈরি করুন, প্রতিদিন একই সময় পড়লে মস্তিষ্ক অভ্যস্ত হয়ে যায়।
✅ পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন, ঘুম কম হলে মনোযোগ ধরে রাখা অসম্ভব।
✅ হালকা ব্যায়াম করুন, ব্যায়াম মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাড়ায়, যা ফোকাস বাড়াতে সাহায্য করে।
✅ অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার কমান, দিনের নির্দিষ্ট সময় সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য রাখুন।
✅ নিজের অগ্রগতি লিখে রাখুন, আজ কতক্ষণ মন দিয়ে পড়তে পেরেছেন—লিখে রাখলে অনুপ্রেরণা বাড়ে।
অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
➡️ সন্তানকে শুধু নিষেধ করবেন না, বোঝান
➡️ পড়ার জন্য সহযোগী পরিবেশ তৈরি করুন
➡️ মোবাইল ব্যবহারে সময়সীমা ঠিক করে দিন
➡️ নিজেও মোবাইল ব্যবহারে সচেতন থাকুন
পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর উপকারিতা
✨ পড়া দ্রুত শেষ হয়
✨ বিষয় ভালোভাবে মনে থাকে
✨ ফলাফল উন্নত হয়
✨ আত্মবিশ্বাস বাড়ে
✨ সময়ের সঠিক ব্যবহার শেখা যায়
মোবাইল ফোন আধুনিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও, অতিরিক্ত ব্যবহার পড়াশোনার বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পড়তে বসলেই যদি মোবাইলের দিকে মন চলে যায়, তাহলে নিজেকে দোষ না দিয়ে সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করতে হবে। সঠিক কৌশল, সচেতনতা এবং ধৈর্যের মাধ্যমে যে কেউ আবার পড়াশোনায় মনোযোগ ফিরে পেতে পারে।
মনে রাখবেন—
আজ মনোযোগ দিলে, আগামীকাল সাফল্য নিশ্চিত।
পোষ্টটি শেয়ার করুন
Post review
Finding Your Post
শীতে ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক উপায়ে করনীয়-
বাংলাদেশ একটি নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুর দেশ। বছরের ছয় ঋতুর মধ্যে শীতকাল প্রকৃতির অন্যতম পরিবর্তনশীল ও বৈচিত্র্যময় সময়। এ সময় তাপমাত্রা কমে যায়, বাতাস শুষ্ক হয় এবং আর্দ্রতা হ্রাস পায়। এই মৌসুমি পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি পড়ে আমাদের ত্বকের ওপর। যাদের ত্বক সাধারণত স্বাভাবিক বা তৈলাক্ত, তাদের ক্ষেত্রেও শীতের সময় দেখা দেয় শুষ্কতা, খসখসে ভাব ও ফাটার সমস্যা। আবার যাদের ত্বক আগে থেকেই সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
ত্বক আমাদের শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ, যা শুধু সৌন্দর্যের নয়, স্বাস্থ্যের প্রতিরক্ষাকবচ হিসেবেও কাজ করে। তাই শীতের মৌসুমে ত্বকের যত্ন নেওয়া একান্ত প্রয়োজন, যাতে ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ও কোমলতা বজায় থাকে এবং সংক্রমণ বা অ্যালার্জি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
❄️ শীতকালে ত্বকের সাধারণ সমস্যা
শীতের মৌসুমে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায় এবং ঠান্ডা বাতাসে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল দ্রুত হারিয়ে যায়। এর ফলে দেখা দেয় নানা সমস্যা—
- ত্বকের শুষ্কতা ও খসখসে ভাব: মুখ, ঠোঁট, হাত, পা ও গোড়ালিতে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
- চুলকানি ও একজিমা: শুষ্ক ত্বকে মাইক্রো-ক্র্যাক তৈরি হয়, যা ব্যাকটেরিয়া প্রবেশে সহায়ক হয়।
- ঠোঁট ফাটা: ঠান্ডা বাতাস ও পানিশূন্যতার কারণে ঠোঁট ফেটে যায়।
- ত্বক রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে যাওয়া: সূর্যের আলো কম পাওয়ায় ত্বকে উজ্জ্বলতা কমে যায়।
গ্রামীণ এলাকায় শীতের তীব্রতা শহরের তুলনায় বেশি, তাই গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ত্বক ফাটা, চুলকানি ও গোড়ালি ফাটার সমস্যা অনেক সাধারণ। বিস্তারিত
Smart Men’s Care কম সময়, ৩ টোটকা, দারুণ ত্বক
ত্বকের যত্নের ক্ষেত্রে পুরুষদের অবহেলা প্রশ্নাতীত। তবে এই অচলায়তন ধীর গতিতে হলেও ভাঙছে, পুরুষরা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের প্রতি আরও যত্নবান হয়ে উঠছেন। ফলে ত্বকের যত্ন নিতে আগ্রহী হচ্ছেন পুরুষরাও।
পুরুষদের ত্বক সাধারণত তৈলাক্ত এবং শক্ত হয় এবং এটি প্রতিনিয়ত দূষণ এবং সূর্যালোকের মতো বাহ্যিক কারণগুলির সংস্পর্শে আসে। সঙ্গে যোগ হয় পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ এবং খারাপ খাদ্যাভ্যাস। তৈলাক্ত, শুষ্ক, স্বাভাবিক, সংবেদনশীল বা সংমিশ্রিত, যে কোনও ধরনের ত্বকেরই প্রয়োজন যত্নের।
ক্লিনজিং 🧼✨
দূষণ এবং তেল প্রতিরোধের জন্য এটি সবচেয়ে প্রয়োজনীয়। সহজে বললে, ত্বকের যত্নের প্রথম ধাপ হল ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা। দিনে দু’বার, সকালে এক বার এবং রাতে এক বার ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেললেই ময়লা দূর হয়ে যায় অনেককাংশে। ত্বকের চরিত্রের উপর ভিত্তি করে ঠিক ক্লিনজার বেছে নিতে পারলে তা ত্বকের ছিদ্রগুলিকে বন্ধ করতে এবং ব্রণ প্রতিরোধে সহায়তা করে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সাধারণত এএইচএ-বিএইচএ ফেসওয়াশ সুপারিশ করা হয়।
page revew
ASSET Course Registration
Job Edu BD
জীবিকা ও জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্য.



